এ কেমন স্বাধীনতা
জন্মতো এ জীবন যোগে মাতার গর্ভাশয়ে
আদর ভরা ভিতের গড়ন পিতার আশ্রয়ে।
বেড়ে ওঠার হাতছানি দেয় হামাগুড়ি পা
পরতে-পরতে হাঁটতে শেখা ধুলায় ভরে গা।
গায়ে পায়ে ব্যথা নিয়ে খুঁজতে থাকা কোল
কোল দিতে ঐ মামা মাসি বাঁধায় গন্ডগোল।
রাত শেষে হয় দিনের আলো নয়ন খোঁজে মাঠ
এক ছুটেতে মন ছুঁতে চায় আগামীর চৌকাঠ।
হাঁটতে শিখেই স্বাধীন চলায় মায়ের শাসন জারি
টলমলে পা, চোখ রাঙানি, স্বাধীন ছুটে আড়ি।
শুনবো যেটা শিখব সেটা অবুঝ মনের জানা
গুরুজনে পাঠ যে শেখায় স্বাধীন বলায় মানা।
শরীর যে চায় শক্তি জোগান করতে উদর পূর্তি
গড়তে স্বাস্থ্য না চাওয়ায় ও থাকতে হবে স্ফূর্তি।
জগৎ দেখি ঋতুর অধীন মেঘ থেকে হয় বৃষ্টি
ঘাম ঝরা দিন, বৃষ্টি সকাল, সূর্য দ্বারাই সৃষ্টি।
চলার পথে নজরপাতে শরীর মনে ক্লান্তি
স্ববশ মনের অস্থি জুড়ে ধুলোর স্বাধীন ভ্রান্তি!
তবুও জমাই আয়ের টাকা স্বাধীনতা কিনতে
খাতা ভরে শব্দ সাজাই দোষ কি 'কবি' মানতে!
স্বাধীন সমাজ স্বাধীন ঘরে স্বাধীন বসবাস
স্বাধীন হাওয়ার ঝোঁকা এলে হারাই স্বাধীন আশ।
স্বাধীন জোরে ফুলিয়ে পেশি উড়াই স্বাধীনতা
অহম জালে পতন জীবন এ যে গল্প গাঁথা।
স্বাধীন স্বভাব মিথ্যে মোহে বসত করে মন
স্বাধীন কেবল প্রকৃতি মা হয়েছি বিস্মরণ।
'স্বাধীন' এই শব্দটাতেই পরাধীনতার ধোঁয়া
কখন আবার আকাডেমির লাগে স্বাধীন ছোঁয়া।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন